পর্বতারোহণের রোমান্টিক মিথ

আমাদের সমাজে পর্বতারোহীদের ঘিরে এক অদ্ভুত রোমান্টিকতা কাজ করে, যা বাস্তবতার চেয়ে কল্পনার উপর বেশি নির্ভরশীল। যখনই কোনো ব্যক্তি কোনো পর্বতশৃঙ্গ আরোহণ করে, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সাহসী, মহৎ, প্রকৃতিপ্রেমী, নৈতিকভাবে উন্নত এবং সমাজের জন্য অনুকরণীয় একজন মানুষ হিসেবে ধরে নিই।

আমাদের ভাবখানা এমন থাকে যেন পাহাড়ে আরোহণ করা ইটসেল্ফ একধরনের নৈতিক অর্জন, যা ব্যক্তির সামগ্রিক চরিত্রকে গ্লোরিফাই করে তোলে। কিন্তু এই স্বতঃস্ফূর্ত গ্লোরিফিকেশনের পেছনের কারণগুলো কি আমরা কখনো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছি? একটি কঠিন শারীরিক ও মানসিক বাধা অতিক্রম করে সামিট করার মধ্য দিয়ে কীভাবে একজন ব্যক্তির চরিত্র, নৈতিকতা বা মানবিকতা সম্পর্কে আমরা চটজলদি সিদ্ধান্তে চলে আসি? পাহাড় পর্বতে যারাই যায়, তারাই ‘ভালো মানুষ’, এই সহজ সরল সমীকরণ কিভাবে আমাদের মনোজগতে প্রোথিত হয়ে আছে?

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক ঘৃণ্য ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার আশেপাশের মানুষদের অবিশ্বাস, ডিনায়াল, হতবাক হওয়ার প্রতিক্রিয়া দেখে এই প্রশ্নটি খুব ভাবাচ্ছে। এই বিষয়ক আমার চিন্তা-ভাবনা যে সেন্ট পারসেন্ট একিউরেট সেই দাবী করছি না। এর অনেকটাই আমার ধারণা মাত্র। পাল্টা কিছু চিন্তাভাবনা, আরও কিছু হাইপোথিসিস, থিওরি, প্রশ্ন, পাল্টা প্রশ্ন আর আলোচনা করার তাগিদ থেকেই এই লেখার অবতারণা।

পর্বতারোহীদের ঘিরে আমাদের যে ইমাজিনেশন, তার ভিত্তি দুটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক মিথের উপর গড়ে উঠেছে—একটি আধ্যাত্মিক এবং অন্যটি রাজনৈতিক।

সমতলে থাকি বলে পাহাড় সবসময়ই আমাদের জন্য অচেনা অজানা কিছু। যা কিছুই জানি তার সবই ধোঁয়াশা, অস্পষ্ট; বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই কিছুই জানি না। আমাদের কাছে পাহাড়কে কঠিন, দুর্গম, মৃত্যুরক্ষেত্র হিসেবেই কল্পনা করি। পাহাড় পর্বত বা মোটাদাগে হিমালয় সম্পর্কে আমাদের যতটুকু জ্ঞান তার সিংহভাগই বই পড়ে বা লোকমুখে শোনা তথ্য। তাই যারাই পাহাড়ে যায় তাদের আমরা একটু অন্যভাবেই দেখি। পাহাড়ের সঙ্গে যুক্ত এই পবিত্রতাকে পাহাড়ে আরোহণকারী মানুষের উপর আরোপ করি। আমাদের অবচেতন মনে এমন একটি ধারণা তৈরি হয় যে, পাহাড়ে গেলেই মানুষ কিছুটা সাধু হয়ে যায়, তার ভেতরের অপবিত্রতা দূর হয়ে যায় এবং সে এক উচ্চতর নৈতিক অবস্থানে উন্নীত হয়। এই ধারণাটি এতটাই প্রবল যে, আমরা পর্বতারোহীদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য বা চরিত্র সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন বোধ করি না।

মানব সভ্যতার আদিকাল থেকেই পাহাড়কে রহস্যময় পবিত্র স্থান হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও পৌরাণিক আখ্যানে পাহাড়ের এক বিশেষ স্থান রয়েছে। দেবতারা পাহাড়ে বাস করেন, সাধু-সন্ন্যাসীরা পাহাড়ের নির্জনতায় ধ্যান করেন, এবং নবীরা পাহাড়ে গিয়ে ঐশ্বরিক জ্ঞান বা ওহি লাভ করেন। এই ধারণাগুলো পাহাড়কে ধীরে ধীরে একটি আধ্যাত্মিক প্রতীকে পরিণত করেছে, যা পবিত্রতা, জ্ঞান এবং ঐশ্বরিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পাহাড়ের সেই আধ্যাত্মিক রুপের মিথ আমাদের অবচেতনা মনে এভাবেই গড়ে উঠেছে।

তবে বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। একজন মানুষ পাহাড়ে যেতে পারেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউ হয়তো নিঃসঙ্গতার খোঁজে পাহাড়ে যান, প্রকৃতির বিশালতার মাঝে নিজেকে খুঁজে পেতে চান। আবার অন্য একজন যেতে পারেন নিছকই খ্যাতি অর্জনের জন্য, নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় খোদাই করার বাসনায়। কেউ প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে পাহাড়ে আরোহণ করেন, আবার কেউ নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে, অন্যদের চেয়ে নিজেকে উন্নত দেখাতে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। কেউ কেউ চুরি চামারি করতেও পাহাড়ে যায়। পাহাড় কোনো ব্যক্তির উদ্দেশ্যকে পবিত্র করে না। পাহাড়ে আরোহণ কাউকে সৎ বানায় না, উদার বানায় না, বিনয়ীও বানায় না। বরং, একজন ব্যক্তির প্রকৃত চরিত্র পাহাড়ে গিয়ে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আমি তো বলব বাংলাদেশীদের মধ্যে পাহাড়ে যারা যায়, তাদের একটা বড় অংশ চোর চোট্টা বাটপার। আমাদের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার, সামিট নিয়ে মিথ্যা বলা, মিথ্যা ক্লেইম করা, অসুস্থ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি খুবই সাধারণ বিষয়। অবশ্য এটি পুরো মানুষ্যজাতির জন্যই প্রযোজ্য। অন্যান্য দেশে তো আরও বড় বড় অনৈতিক পর্বতারোহীরা বাস করে। এই যে এডমন্ড হিলারি, সে নিজেকে নৈতিক পর্বতারোহী ছিল নাকি? পাহাড়ের বাসিন্দা শেরপাদের মধ্যেও প্রচুর অনৈতিক মানুষ আছে। ক্লায়েন্টদের ভুল জায়গায় নিয়ে গিয়ে সামিট ক্লেইম করানো, সামিটে না গিয়েই ভুয়া সার্টিফিকেট দেয়া থেকে শুরু করে হাল আমলের হেলি রেস্কিউ স্ক্যাম সব নানা প্রতারণার সাথে জড়িত তারা।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, যে ব্যক্তি নিজের জীবনকে বারবার চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেন, পরিবারের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠাকে উপেক্ষা করেন এবং একটি ব্যক্তিগত লক্ষ্যের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করেন, তাকে আমরা কেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে একজন “উচ্চতর” মানুষ হিসেবে কল্পনা করি? পাহাড় মানুষকে পবিত্র করে—এই ধারণা আসলে ধর্মীয় প্রতীকের একটি ভুল প্রয়োগ। পাহাড়ে গেলেই মানুষ পবিত্র হয়ে যায় না। তাদের মানবিক গুণাবলী বা সীমাবদ্ধতা পাহাড়ের উচ্চতা দ্বারা কোনভাবেই নির্ধারিত হয় না।

সাংস্কৃতিক মিথের আরেকটি দিক হল রাজনৈতিক, যেখানে পর্বতারোহী মানেই জাতীয় বীর।

এই ন্যারেটিভ বর্তমানে আধ্যাত্মিক মিথের চেয়েও শক্তিশালী এবং বহুল প্রচলিত। আজকের পৃথিবীতে যখন কোনো পর্বতারোহী কোনো শৃঙ্গে আরোহণ করেন, তখন প্রায়শই তাকে “দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন”, “জাতির গর্ব” বা “জাতীয় বীর” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো: কেন? কোনো পাহাড়ে আরোহণ করা কীভাবে একটি জাতীয় অর্জনে পরিণত হয়?

উনিশ ও বিশ শতকের ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী যুগে অভিযাত্রী, মেরু জয়ী এবং পর্বতারোহীদের জাতীয় বীর হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছিল। তারা কেবল ব্যক্তি ছিলেন না; তারা ছিলেন জাতির প্রতীক। তাদের পতাকা উত্তোলন, শৃঙ্গ জয়, এবং অজানাকে বশ করার প্রচেষ্টা—এ সবই জাতীয় শক্তির প্রদর্শন হিসেবে উপস্থাপিত হতো। এই অভিযাত্রীরা তাদের নিজ নিজ দেশের প্রভাব ও ক্ষমতা বিস্তারের এক ধরনের নীরব দূত হিসেবে কাজ করতেন।

মজার ব্যাপার হল, আজও সেই ন্যারেটিভ বেঁচে আছে। আমরা এখনও “জয়” শব্দ ব্যবহার করি, এখনও “পতাকা বহন” নিয়ে আবেগ তৈরি করি এবং এখনও ব্যক্তিগত অভিযাত্রাকে জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে পরিণত করি।

এটি একটি সুপ্রাচীন রাজনৈতিক কৌশল। ব্যক্তিগত অর্জনকে সমষ্টিগত গৌরবে রূপান্তরিত করার এই কলোনিয়াল ডিলিউসন আসলে একটি মার্কেটিং স্ট্রেটেজি। এই স্ট্রেটেজিতে স্পনসরশিপ ডিল আছে, মাইলেজ আছে, সিপিএম, এক্টিভেশন, মিডিয়া আউটরিচ…ইত্যাদি আছে। একজনের ব্যক্তিগত আরোহণ কখনোই এই স্ট্যাটিস্টিক্সে ধোপে টিকবে না। তাই কোন না কোনভাবে এমন ন্যারেটিভ নিয়ে আসতে হয় যাতে বিরাট একটা ‘সংখ্যা’র সাথে কানেক্ট করা যায়।

কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় আমরা একটি মৌলিক সত্যকে এড়িয়ে যাই: পাহাড় কোনো শত্রু নয়। পাহাড়কে জয় করা যায় না। পাহাড় তার নিজস্ব মহিমায় দাঁড়িয়ে থাকে, মানুষের আরোহণ বা অনারোহণ তার অস্তিত্বে কোনো পরিবর্তন আনে না। আর কোনো শৃঙ্গে আরোহণ একটি ব্যক্তিগত সাফল্য হতে পারে, কিন্তু সেটি কীভাবে দেশের কোটি মানুষের সাফল্য হয়ে যায়, তার ব্যাখ্যা খুব কমই দেওয়া হয়। এই জাতীয়তাবাদী আখ্যান প্রায়শই ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আত্ম-প্রচারের একটি আবরণ হিসেবে কাজ করে, যেখানে দেশের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত অর্জনকে মহিমান্বিত করা হয়।

অনেক পর্বতারোহী দাবি করেন যে তারা দেশের জন্য মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে ওঠেন। এই দাবিটি আবেগপ্রবণ এবং অনেক সময় শ্রদ্ধার উদ্রেককারী হলেও, পুরোপুরি বাস্তবতা বিবর্জিত। যদি কেউ সত্যিই দেশের জন্য কাজ করেন, তাহলে তার কাজের প্রত্যক্ষ উপকারভোগী কারা? একজন চিকিৎসক মানুষের জীবন বাঁচান, একজন কৃষক খাদ্য উৎপাদন করেন, একজন শিক্ষক জ্ঞান বিতরণ করেন, একজন উদ্ধারকর্মী বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ান, একজন সুইপার দেশকে পরিষ্কার রাখেন। এদের প্রত্যেকের কাজের একটি প্রত্যক্ষ সামাজিক উপযোগিতা রয়েছে, যা সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে সরাসরি অবদান রাখে।

কিন্তু একজন পর্বতারোহী যখন একটি শৃঙ্গে আরোহণ করেন, তখন সেই কাজের প্রত্যক্ষ সামাজিক উপযোগিতা কী? অনেকে হয়তো বলবেন, এটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তা করে অবশ্যই। পর্বতারোহীদের অদম্য সাহস, দৃঢ় সংকল্প এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিকতা নিঃসন্দেহে অনেককে অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু অনুপ্রেরণা এবং জনসেবা এক জিনিস হইলো?

অনুপ্রেরণা এমন একটি জিনিস যা পরোক্ষভাবে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, জনসেবা একটি বাস্তব মূল্য, যা সরাসরি সমাজের চাহিদা পূরণ করে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। এই দুটি ধারণাকে এক করে ফেললে ব্যক্তিগত স্বপ্ন এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় আত্মত্যাগ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা অনেক সময় ভুল বার্তা দেয়।

একজন পর্বতারোহীর ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং অর্জনের পেছনে তার নিজস্ব আবেগ, স্বপ্ন এবং আত্ম-সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা কাজ করে। এতে নিন্দা করার কি আছে। বরং, মানুষের ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণের এই প্রচেষ্টা প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু যখন এই ব্যক্তিগত অর্জনকে জাতীয়তাবাদের মোড়কে ঢেকে দেওয়া হয় এবং এটিকে দেশের জন্য এক মহান আত্মত্যাগ হিসেবে প্রচার করা হয়, তখন তা এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করে। এটি একটি দ্বিচারিতা, আর এখান থেকেই প্রথম প্রতারণাটি শুরু হয়। এটি পর্বতারোহণের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে আড়াল করে এবং এর সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকি ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতাকে গৌণ করে তোলে।

পাহাড় পর্বত পর্বতারোহণ, কোনটাই সমস্যা না। সমস্যা হলো পর্বতারোহীদের নিয়ে তৈরি হওয়া আমাদের মনের রোমান্টিক মিথ। আমরা তাদের মানুষ হিসেবে দেখতে চাই না। আমরা তাদের প্রতীকে পরিণত করতে চাই—কখনও আধ্যাত্মিক প্রতীক, কখনও জাতীয়তাবাদের প্রতীক, কখনও সাহসের প্রতীক, কখনও ত্যাগের প্রতীক। কিন্তু একজন রক্ত মাংসের মানুষকে কি কখনও একটি প্রতীকের মধ্যে বেধে ফেলা সম্ভব? মানুষ আামাদের ধারণার চাইতেও অনেক বেশি জটিল।

পর্বতারোহীদের মধ্যে অহংকার আছে, প্রতিযোগিতা আছে, ঈর্ষা আছে, মিথ্যাচার আছে, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আছে। আবার তাদের মধ্যেও বন্ধুত্ব আছে, উদারতা আছে, সাহস আছে, সততাও আছে। অর্থাৎ, তারা অন্য সবার মতোই মানুষ, যাদের মধ্যে ভালো-মন্দ, গুণ-দোষের এক মিশ্রণ বিদ্যমান। তাদের মানবিক সীমাবদ্ধতা এবং গুণাবলী পাহাড়ের উচ্চতা দ্বারা নির্ধারিত হয় না, বরং তা তাদের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতার ফল।

সম্ভবত সবচেয়ে বড় ভুলটি আমরা তখনই করি, যখন কোনো মানুষকে তার কাজের কারণে নৈতিকভাবে উন্নত বা রাজনৈতিকভাবে হুদাই গ্লোরিফাই করি। একজন মানুষ পাহাড়ে উঠতে পারেন। এটি একটি দক্ষতা, একটি আবেগ, একটি জীবনচর্চা। এটি তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার পরিচায়ক। কিন্তু পাহাড়ে আরোহণ তাকে সাধু সন্ত বানায় না, জাতীয় বীরও বানায় না। পাহাড় তার ইন্ট্রিন্সিক চরিত্রকে আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান করে। পাহাড়ের প্রতিকূল পরিবেশে একজন মানুষের ধৈর্য, সহনশীলতা, নেতৃত্বগুণ, বা এমনকি তার দুর্বলতাগুলোও প্রকট হয়ে ওঠে। আর সেই চরিত্র, ভালো হোক বা মন্দ, পাহাড় থেকে আসে না। আসে মানুষের ভেতর থেকে, তার নিজস্ব মূল্যবোধ, শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে।

সুতরাং, পর্বতারোহীদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত। তাদের ব্যক্তিগত অর্জনকে সম্মান জানানো উচিত, তাদের সাহস ও সংকল্পকে প্রশংসা করা উচিত। কিন্তু তাদের উপর অপ্রয়োজনীয় আধ্যাত্মিক বা জাতীয়তাবাদী প্রতীক আরোপ করে উচ্চমার্গীয় এক্সপেকটেশন রাখা আমাদের নিজেদের জন্যই খারাপ। পর্বতারোহীদের গড়পড়তা মানুষ হিসেবেই দেখুন, যাদের ব্যক্তিগত স্বপ্ন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এতে পর্বতারোহণের প্রকৃত সৌন্দর্য এবং মানবিক দিকটি আরও ভালোভাবে উন্মোচিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!